"আন্তর্জাতিক যৌথ বিবৃতি"

~ 中文 ~ deutsch ~ english ~ español ~ françaistürkçe ~

"আন্তর্জাতিক যৌথ বিবৃতি"

বিগত কয়েক দশক ধরেই বিশ্বব্যাপী ছাত্র, জনতা, শিক্ষক, অভিভাবক নির্বিশেষে সকলেই সরকারী শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ এবং বেসরকারিকরণ –এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করে আসছে এবং বিনামূল্যে সার্বজনীন শিক্ষা প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছে। আমাদের মাঝে অনেকেই আমাদের স্ব-স্ব আন্দোলন ও প্রতিরোধকে বেগবান ও শক্তিশালী করার জন্য “আন্তর্জাতিক ছাত্র আন্দোলন” –এর প্লাটফর্মকে কাজে লাগায়, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল তথ্যের অবাধ সরবরাহ ও বিনিময় নিশ্চিত করা, পারষ্পারিক আন্তঃসম্পর্ক গড়ে তোলা ও তার উন্নয়ন ঘটানো এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লেভেলে আন্দোলনসমূহ সংগঠিত করার লক্ষ্যে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে আই এস এম –এর যাত্রা শুরুর পর থেকে অদ্যবধি এ প্লাটফর্ম থেকে ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা-বাণিজ্যিকীকরণ প্রতিরোধ দিবস[নভেম্বর ৫, ২০০৮], ‘শিক্ষার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা – গ্লোবাল উইক অব অ্যাকশন[এপ্রিল ২০-২৯, ২০০৯], ‘শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয় - গ্লোবাল উইক অব অ্যাকশন[নভেম্বর ৫, -১৮, ২০০৯],শিক্ষার অধিকার আদায়ে বৈশ্বিক আন্দোলন[অক্টোবর-নভেম্বর ২০১০], স্প্রিং অফ রেসিস্তান্স [মার্চ - মে ২০১১]  এবং "গ্লোবাল বীক্ষ অফ আচ্তীয়ন ফর এদুকাতীয়ন" [নভেম্বর ৭-২০ ২০১১] প্রভৃতি কর্মসূচী সমণ্বিত ও পরিচালিত হয়েছে।

আমরা চাই পারষ্পারিক আলোচনা-সমালোচনা ও কার্যক্রমের দ্বারা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক একটি সার্বিক সাংগঠনিক কাঠামো যেখানে সকলের সমান পদাধিকার থাকবে। সরকারী শিক্ষার বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে এবং বিনামূল্যে সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সাথে একাত্মবোধকারী যে কেউ আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সেই সাথে এই সাংগঠনিক প্লাটফর্মকে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

আমাদের সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ হওয়ার মূল লক্ষ্যঃ

আমরা কিসের বা কার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করছি?

  • শিক্ষা ব্যবস্থা ও গণমানুষের উপর বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রভাবঃ
    টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি –এগুলো এমন যে তা সর্বস্তরের জনগণের সমান অংশগ্রহণ ও অবাধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অধিকারকে রহিত করে।
    লেখাপড়ার ব্যয়ভার ক্রমবৃদ্ধি –যার ফলশ্রুতিতে দিনকে দিন ছাত্র-ছাত্রীদের ঋণের পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে।
    পুঁজি বাজারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা।

    বহুল প্রচলিত ‘বোলোগনা’ পদ্ধতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শিক্ষার এমন ধারা চালু করা যা মূলতই শুধুমাত্র শ্রম বাজারের সাথে সংগঠিতপূর্ণ দক্ষতাসমূহের অনুশীলন করায়। এর ফলশ্রুতিতে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অনুশীলন বাবদ আপাত হ্রাসপ্রাপ্ত ব্যয়ভারের ক্রমাগত বৃদ্ধি ঘটে, পড়ালেখার জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং পরিণামে নিচু অমর্যাদাকর কাজের জন্য উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠে।

    জীবন-জীবীকার প্রতিটি ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিকীকরণের অংশ হিসেবে শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর।
    সরকারী শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত মূল বাজেটে বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্যপূর্ণ ক্রমবর্ধমান প্রভাব।
    বিশ্বব্যাপী সরকারী শিক্ষার ব্যয়ভার বাবদ বরাদ্দকৃত বাজেটের উল্লেখযোগ্য হ্রাস –যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই।
    বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের আধা-সরকারী হওয়ার অজুহাতে সরকারী তহবিলের ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণ।
    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অভ্যন্তরে শ্রম বিভাজন ও বাণিজ্যিকীকরণের উদ্ভব।

  • যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অভ্যন্তরীণ সকল বৈষম্য ও বিভাজনের বিরুদ্ধে যে সকল ঘটনার বা বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে আমরা অবস্থান নিয়েছি সেগুলো হলোঃ
    আর্থ-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত, যেমন –এমন টিউশন ফি নির্ধারণ করা যাতে করে গরীব ছেলেমেয়েরা সমানভাবে শিক্ষাগ্রহণ করতে না পারে।
    জাতীয়তা
    পূর্ব দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল
    রাজনৈতিক মতাদর্শ ও কর্মসূচি
    লিঙ্গ
    নারী-পুরুষ বৈষম্য বা ভেদাভেদ
    ধর্ম
    জাতিগত ও মূল্যবোধজনিত পরিচিতি
    গাত্রবর্ণের ভিন্নতা
  • সকলের জন্যে বিনামূল্যে উন্মুক্ত যে জ্ঞান তার চেয়ে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান ‘প্যাটেন্ট’-সমূহের গবেষণার প্রতি অগ্রাধিকার –এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম।
    সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ দিনকে দিন অধিক হারে তাদের মৌল গবেষণাসমূহ চালনার জন্য বেসরকারি স্পন্সরশিপ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য হচ্ছে; সেই সাথে এ বেসরকারি অর্থায়ন লাভজনক গবেষণা খাতেই শুধু বরাদ্দ দেয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যাচ্ছে অথচ অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে ততোটা লাভজনক না হওয়ায় গবেষণার প্রচুর খাতই বাদ থেকে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও শিক্ষার্থীদেরকে অর্থনৈতিক লভ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রায়শই অতিরিক্ত সরকারি অর্থায়ন পেতে এ ধরনের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তাদের প্রতিযোগিতায় নামতে হয়।
  • শিক্ষাবিজ্ঞান এবং মৌলিক খাতে গবেষনার চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক গবেষণায় অগ্রাধিকারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কোন ধরণের মিলিটারি কর্মসূচির বিরুদ্ধে, যেমন –
    শুধুমাত্র মিলিটারি বা সেনাবাহিনীর জন্যে কোনো গবেষনা চালান যাবে না।
    সেনাবাহিনীর প্রয়োজনে কোনও ধরণের রিক্রুটমেন্ট ও বিজ্ঞাপন কর্মসূচি চালানো যাবে না।

আমরা কীসের জন্য আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চালাচ্ছি?

  • বিষয়বস্তুঃ
    বিনামূল্যে সার্বজনীন শিক্ষা প্রাপ্তি প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার। শিক্ষার প্রাথমিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ প্রতিটি ব্যক্তির চেতনা তথা আত্মার উন্মেষ ঘটানো যাতে করে সে তার চারপাশের পরিবেশ-পরিস্থিতি ও ক্ষমতার বিভাজনের যে সার্বিক কাঠামো তাকে বুঝতে পারে। শিক্ষা শুধুমাত্র ব্যক্তিচেতনা নয় বরংচ সামগ্রিক সমাজের প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথ করে দেয়।
    জনগণের মৌলিক অধিকার বলে শিক্ষা জনগণের স্বার্থকে সংরক্ষণ করবে।
    প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাছাই করার স্বাধীনতাঃ শিক্ষার যে কোনো সেক্টরকে বাছাই করার স্বাধীনতা থাকবে।

  • যোগ্যতা ও অধিকারঃ
    বেতন ও ফি –এর ক্ষেত্রে কোনো ধরণের বৈষম্য থাকবে না ও কোনো ব্যক্তি বিশেষ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাবে না যা কিনা সর্বসাধারনের জন্য সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয় এবং সকলে সমানভাবে ও বিনামূল্যে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
    লাভজনক হোক বা না হোক, সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের সু-ব্যবস্থা থাকবে।

  • কাঠামোঃ
    সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে কাঠামোগত ও বিধিগতভাবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের মানুষ সমানভাবে ও প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে পারে।

কেনো এ আন্দোলন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়েই প্রয়োজন?

আমাদের বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সিস্টেমের প্রভাব সমগ্র বিশ্বকে আরো দুঃখ-দুর্দশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের জাতীয় বা আঞ্চলিক রাজনীতি ও বিধিমালার প্রগতিশীল পরিবর্তন আনতে জাতীয়ভাবে চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদেরকে সমস্যাসমূহকে চিহ্নিত করে সেগুলোর আন্তর্জাতিক ও কাঠামোগত প্রকৃতিকে বুঝতে হবে এবং প্রত্যেককে পরস্পরের কৌশল, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তাত্ত্বিক জ্ঞান হতে শিক্ষা নিতে হবে। জাতীয়ভাবে স্বল্পস্থায়ী কিছু পরিবর্তন আনা গেলেও বড় ধরনের স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নাই।

বিশ্বজুড়ে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে থেকেই একে ব্যবহার করে ইচ্ছামত যা খুশি তাই করছে। পক্ষপাতদুষ্ট আচরন এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে; এমন সিস্টেম তৈরি করছে যাতে করে মেরুদণ্ডহীন, অজ্ঞ ও আজ্ঞাবহ এক জনশক্তি গড়ে উঠে। আমরা এর থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্নধর্মী একটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এবং ভিন্ন একটি জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে চাই।

বিনামূল্যে সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত মানুষদের উপর সারা বিশ্বের সরকারগুলোর যে দমনমূলক মনোভাব – তার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান।

নিম্নলিখিত দলসমূহ এবং ব্যক্তিবিশেষ উপরোক্ত আমাদের এ সিস্টেমকে সমর্থন দিয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতে সারা বিশ্বের শিক্ষা আন্দোলনকর্মীদেরকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ করতে এবং পরস্পরের মধ্যে আন্তঃনেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে ও এর শাখা-প্রশাখা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আপনিও কি আপনার (বা আপনার দলের) নাম এখানে নিবন্ধিত করে আমাদের এ বিবৃতির সাথে একাত্মতা ঘোষনা করতে চান? তাহলে এখানে ই-মেইল পাঠানঃ united.for.education@gmail.com

~ এক বিশ্ব – এক সংগ্রাম ~

Thanks to the Bangladesh Students' Union (বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) for the translation.

----------------------------------------------------------------------

এ পর্যন্ত যে সকল গ্রুপ এই ‘যৌথ বিবৃতি’ তে নিবন্ধন করেছেঃ

 

এ পর্যন্ত যে সকল ব্যক্তিবিশেষ এই ‘যৌথ বিবৃতি’ তে নিবন্ধন করেছেঃ